মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা বার্তা, ছবি, কবিতা, ও বিজয়ের গান

মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা! আমরা জানি বাংলাদেশ নামটি এসেছে 30 লক্ষ শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে। ১৯৭১ সালে ১৬ ই ডিসেম্বর পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে। আমরা যে দেশে বাস করছি এ দেশের নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ। আগে এ দেশটির নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান। পাকিস্তানের নির্মম অত্যাচার ও জুলুমের কারণেই বাঙালিরা ১৯৭১ সালের যুদ্ধে সামিল হয়। এ সময় বাংলাদেশের ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে মানুষ পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। অনেক ছেলে হারানো মা কিংবা আমাদের বোনের ইজ্জত বিনিময়ে আমরা এই সোনার দেশ পেয়েছি বাংলাদেশ।

তাই বাংলাদেশ ১৬ ই ডিসেম্বর শহীদদের স্মৃতি প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান রাখার জন্য বাংলাদেশে এই দিনটি আনন্দের দিন হিসেবে পালন করা হয়। কারন বাংলাদেশ স্বাধীন হয় ১৬ ই ডিসেম্বর। আপনারা যদি এই উৎসবের দিন তাকে এসএমএস কিংবা ছবির মাধ্যমে আপনার প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা দিতে চান। তাহলে আমাদের ওয়েবসাইট থেকে আপনি ছবি, শুভেচ্ছা বার্তা, কবিতা, গান, সব পেয়ে যাবেন। আপনাদের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকলো আমাদের পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকবেন।

বিজয়ের শুভেচ্ছা ছবির মাধ্যমে জানাতে পারেন

বাংলাদেশ এবারের বিজয় দিবসে আমরা গুরুত্ব তার সাথে চেষ্টা করেছি আপনাদের নতুন কিছু দেয়ার জন্য। তাই এই সুবাদে আমাদের ওয়েবসাইটে এবারের বিজয় দিবসে নতুন কিছু ছবি আমরা সংযুক্ত করেছি। দয়া করে এই ছবিগুলো আপনারা দেখে নিন। এবং খুব সহজে ডাউনলোড করে আপনার প্রিয়জনকে পাঠিয়ে দিন।

বিজয় দিবস
বিজয় দিবস
বিজয় দিবস
বিজয় দিবস
বিজয় দিবস
বিজয় দিবস
বিজয় দিবস
বিজয় দিবস
বিজয় দিবস
বিজয় দিবস

বিজয় দিবস এসএমএস

বাংলাদেশের বিজয় দিবসে আপনারা অনেকেই রাজনীতি থেকে সর্বস্তরের মানুষকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়ে থাকেন। তাই আপনি চাইলে আমাদের ওয়েবসাইটে সংযুক্ত হওয়ার নতুন কিছু এসএমএস এর মাধ্যমে আপনার সর্বক্ষণের মানুষকে এসএমএস দিয়ে বাংলাদেশের বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানাতে পারেন।

1) লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে, পেয়েছি যে বিজয় নিশান । প্রয়োজনে আবার দেবো রক্ত ঠেলে , বজায় রাখতে বিজয়ের মান । মোদের দেহে থাকতে রক্ত , বৃথা যাবেনা শহীদদের দান । মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ।
2) বিজয় আমাকে পথ দেখিয়েছে , দিয়েছে বাচাঁর আশ্বাস । আমি বিজয়ের গান গাই , আমি স্বাধীনতা কে চাই । আমি বিজয়ের পতাকা ধরে , সারাটি পথ পাড়ি দিতে চাই । মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ।

সবাইকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ?

পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে

পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে

রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল

জোয়ার এসেছে জন-সমুদ্রে

রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল।।

বাঁধন ছেঁড়ার হয়েছে কাল,

হয়েছে কাল, হয়েছে কাল।।

শোষণের দিন শেষ হয়ে আসে

অত্যাচারীরা কাঁপে আজ ত্রাসে

রক্তে আগুন প্রতিরোধ গড়ে

নয়া বাংলার নয়া শ্মশান, নয়া শ্মশান।

আর দেরি নয় উড়াও নিশান

রক্তে বাজুক প্রলয় বিষাণ

বিদ্যুৎ গতি হউক অভিযান

ছিঁড়ে ফেলো সব শত্রু জাল, শত্রু জাল।

সবাইকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ?

মহান বিজয় দিবসের কবিতা

মহান বিজয় দিবসে আমরা দেখতে পারি বিভিন্ন স্কুল অফিস-আদালতে বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন প্রোগ্রাম হয়ে থাকে। সেখানে অনেকেই কবিতা আবৃত্তি করে থাকেন। তাই আপনাদের জন্য আমরা বিজয় দিবস উপলক্ষে খুব সুন্দর এবং আধুনিক কিছু কবিতা যুক্ত করেছি দয়াকরে নিচে এগুলো দেখে নিবেন।

আসাদ চৌধুরী
স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন আজও

স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন আজও দিই নি বিক্রি ক’রে।

ওটাই ছিল বাকি, আমার নিজের বলতে একার,
অন্ধকারের কোলে ব’সে অনেক আকাশ দেখার
ভূতের গালে করতে আদর রাতে কিংবা ভোরে
কাঁপি নি তো ডরে, স্বপ্ন ছিল দু’চোখ ভ’রে।

গ্যাছে আমার অনেক কিছুইÑ শখের তেজারতি,
জলের দরে জমি জিরেত, তাসের ঘরের ক্ষতি,
প’ড়ে পাওয়া নিন্দাখ্যাতি এবং নিজের কেনা
আলসেমিটাই সঙ্গী, আমার সবার কাছে দেনাÑ
আগলে রাখি স্বপ্ন, ঘরে হাজার অভাব ঘোরে
স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন আজও দিই নি বিক্রি করে।

আল মুজাহিদী
স্বাজাত্যবোধের উদ্বোধন

আজ বিজয়ের দিন মহা মুক্তির দিন
স্বাজাত্যবোধের উদ্বোধনী দিন
রাঢ়-বঙ্গ-কলিঙ্গ-সমতট-হরিকেল বাংলার দিন
মৃত্তিকা প্রাণিত চিরায়ত বাংলার
স্বাধীনতা-স্বাধীনতা দিন
আজ আকাশে বাতাসে স্বাধীন-পতাকা উড্ডীন

চির বিস্মিত চির বিম্বিত চির শাশ্বত
Ñএই স্বাধীনতা
শতবিংশতিতম এই স্বাধীনতা
আমাদের আর তাহাদেরÑ
লক্ষ কোটি শহীদের শোণিত ধারায় সিক্ত সিক্ত
শারসশ্বত এই স্বাধীনতা
বাংলার স্বাধীনতা
বাঙালির স্বাধীনতা
বিজয়তু স্বাধীনতা
নব নব বিংশতির বিজয়-বৈজয়ন্তী জয়তি
জয়তি জয়তি জয়ন্তী মুক্তির পতাকা উড়ছে
Ñউড়–ক উড়–ক
আগামী আরো হোক উন্মুখ
চৌদিকে ফুটছে রক্তিম কিংশুক

হাসান হাফিজ
পরম চরম ত্যাগ

সাধারণ সূর্য সে তো নয়
রক্তসূর্য, স্বাধীনতা বলে ওকে ডাকি
সে এক আশ্চর্য পাখি
ডানায় রক্তের ছোপ সমুদ্র সমান
কার? কার??
শহীদের। লাখো শহীদের।
স্বাধীনতা পেতে এত রক্ত লেগেছিল।
পতাকার লাল সূর্য
তার তৃষ্ণা গভীর প্রচণ্ড ছিল
লক্ষ প্রাণ বলিদান ছাড়া
ওই বৃত্ত সম্পূর্ণ ও সম্পন্ন হওয়ার মতো
অধিকার, প্রত্যয় রাখে না
তার স্পর্ধা, উড্ডীন থাকবার শক্তি
কে কবে জোগান দেবে? কোত্থেকেই বা দেবে
ওই রক্ত। কার? কার??
শহীদের। স্বাধীনতা-স্বপ্নিল-বিভোর।
এই সোঁদা মৃত্তিকার
সাহসী সন্তান সেই বীর শহীদের
পরম চরম ত্যাগ
সেই সঙ্গে মা-বোনের
তিতিক্ষা সম্ভ্রম।

ফরিদ আহমদ দুলাল
ঘুড়িকথা

ঘুড়ির ‘ডান্ডিফটাশ’ হলে কে আর সযতেœ তাকে বুকে ডাকে
পর্যুদস্ত জীবনে কে স্পর্শ পেতে তাকে শোভন বাঁধিয়ে রাখে;
কাছে রাখা আর দূরে থাকাতে ঘুড়ির কোনো পক্ষপাত নেই
ঘুড়ি ওড়ে নীলাকাশে ইচ্ছেটা ঘুমায় নাটাইয়েই।
ঘুড়ির আকাক্সক্ষা স্বপ্ন বাঁধা ‘কামানিতে’ বাঁধে সুতোয় মনও
আকাশ ঘুড়ির স্বজন মেঘেরা প্রতিপক্ষ এবং আত্মীয়।
বাতাস ছুঁয়েই ঘুড়ি ওড়ে নাটাইয়ের মনে যদি সাধ জাগে
দোবাজ এবং পঙ্খিরাজ হয় কারিগরের শিল্পিত অনুরাগে;
হাসে ঘুড়ি কাঁদে ঘুড়ি কোনোটাই নয় নিজ ইচ্ছায়
পা দু’খানি শৃঙ্খলিত তাই ঘুড়ি থাকে নিরুপায়।

জন্ম-মৃত্যু অসুখ-বিসুখ জানে না কখন হয়
শৃঙ্খলিত ঘুড়ির কি আর ডাক্তারের সাথে আছে পরিচয়!
শোক-তাপ বেদনাবোধ থাকে না ঘুড়ির নির্বোধ মনে
বিরোধ রাখে না ঘুড়িরা কখনও বুকে সঙ্গোপনে।
মুক্তি পেতে ইচ্ছে হলে সুতো ছিঁড়ে মুক্তির আনন্দে নিমগ্ন হও
দোষ-ত্রুটি চাপিয়ে অন্যের কাঁধে পবিত্রতার মুখোশ বও।
যত দোষ আর কলঙ্ক চাপাও ঘুড়ির কিছু-কি যায়-আসে?
প্রাণহীন ঘুড়ি ললাটে চন্দন মেখে কলঙ্কের গাঙে ভাসে।

তমিজ উদ্ দীন লোদী
নদী ভাসে পাথরের স্লাভের ক্যানভাসে

ভয়ঙ্করের ভেতর বেড়ে উঠছে ভ্রুণ
যদিও বারুদ খসে পড়ছে টোটেমের ভেতর
প্রাণ যেন মনুয়া পাখি, ঝরে পড়ছে তুলো হয়ে।

তবু বাজে রণসঙ্গীত
কমলা রঙের পাখি ওড়ে নদী ভাসে পাথরের স্লাভের ক্যানভাসে
বুক ঘষে মাতাল যৌবন, অনিশ্চিত পাখি শিস দেয়।

নির্বাসিত অন্ধকার সরিয়ে কোথায় যে চিলতে আলো
কোথায় যে সূর্যোদয়ের আভা
অলীক হরিণ শুধু দৌড়ে যায় সূর্যাস্তের ছায়া ঢেলে।

তবু ভোর হয়, সুপারি গাছের পাশ দিয়ে উদিত হয় সূর্য
একটি কি একাধিক পাখির রণসঙ্গীতে ভরে ওঠে চার পাশ।

আশাকরি বাংলাদেশের এবারের মহান বিজয় দিবস আমরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান রেখে পালন করব। আমাদের ওয়েবসাইটের বিজয় দিবস উপলক্ষে আপনার এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে। আমাদের ওয়েবসাইটের নিচে কমেন্ট বক্সে আছে এখানে আপনার মতামত প্রকাশ করতে পারেন। প্রথম থেকে আমাদের সাথে শেষ পর্যন্ত থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button