টিন সার্টিফিকেট আবেদন, চেক, ডাউনলোড, সংশোধন ও বাতিল করার নিয়ম

অনেকেই আছেন যারা টিন সার্টিফিকেট আবেদন, সংশোধ্‌ ও কিভাবে টিন সার্টিফিকেট যাচাই করবে। এ সম্পর্কে জানতে চান। অথবা ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করে থাকেন। তাদের জন্য আমরা আজকে আমাদের ওয়েবসাইটে টিন সার্টিফিকেট নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি। আশা করি আমাদের পোষ্টের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই টিন সার্টিফিকেট সম্পর্কে জানতে পারবে। এবং কিভাবে সার্টিফিকেটের আবেদন করবেন। এর সনদ কিভাবে উত্তোলন করবেন সে সম্পর্কেও জানতে পারবেন। তাই আমাদের ওয়েবসাইটের এই নিবন্ধিত পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আপনাকে চোখ রাখতে হবে।

টিন সার্টিফিকেট থাকলেই কি কর দিতে হবে

টিন সার্টিফিকেট সাধারণত আপনি যদি বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাক। তাহলে আপনাকে বাংলাদেশ সরকার নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে কর প্রদান করতে হয়। তাই আপনি যখন কর প্রদান করতে যাবেন,তখন টিন সার্টিফিকেট অত্যাবশ্যক প্রয়োজনীয়। সুতরাং কর দিতে হলে টিন সার্টিফিকেট অবশ্যই লাগবে। টিন সার্টিফিকেট ছাড়া আপনি ইনকাম ট্যাক্স কল দিতে পারবেন। আমরা নিচে টিন সার্টিফিকেট তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সে সম্পর্কে আপনাদের কয়েকটি পয়েন্ট আকারে ধারণা দিব দয়া করে নিচের পয়েন্ট গুলো অনুসরন করুন।

  • যদি আয় বছরে করদাতার মোট করযোগ্য আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে তবে রিটার্ন জমা দিতে হবে।
  • মোটর গাড়ির মালিকানা থাকলে দিতে হবে।
  • মূল্য সংযজোন কর আইন, ১৯৯১ এর অধীন নিবন্ধিত কোন ক্লাবের সদস্যপদ থাকলে।
  • সিটি কর্পোরেশনে অথবা পৌরসভায় ব্যাবসা পরিচালণার জন্য ট্রেড লাইসেন্স থাকলে কর দিতেই হবে।
  • ডাক্তার, আয়কর আইনজীবী, চার্টার্ড একাউন্টেন্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি, সার্ভেয়ার পেশায় নিয়োজিত সকল ব্যাক্তিবর্গকে রিটার্ন জমা দিতে হবে।
  • চেম্বার অব কমার্স এন্ড উন্ডাস্ট্রিজ অথবা কোন ট্রেড এসোসিয়েশনের সদস্য।
  • পৌরসবা, সিটি কর্পরেশন অথবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সকল পদপ্রার্থী
  • সরকারী, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা অথবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ঠিকাদারি কাজে টেন্ডারে অংশগ্রহনকারী সকল ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান।
  • সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারী চাকরীরতদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা বা তার বেশি হলে রিটার্ন জমা দিতে হবে।

টিন সার্টিফিকেটের কাজ কি

অনেকেই জানেননা টিন সার্টিফিকেট কি কাজে লাগে। সাধারণত আপনি যদি ট্রেড লাইসেন্স করতে চান। তাহলে টিন সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন আসে। আপনি যদি কোন বাণিজ্যিক কাজে করে থকেন।
তাহলে আপনার জন্য টিন সার্টিফিকেট করার প্রয়ায়জন। এছাড়াও মোটরসাইকেল লাইসেন্স, কিংবা পৌরসভার থেকে জম্‌ ক্রয় করলে টিন সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন হয়। নিচে কয়েকটি তথ্য দেয়া হলো এগুলো করতে হলে আপনাকে অবশ্যই টিন সার্টিফিকেট প্রয়োজন পড়বে। নিচের অংশটুকু দেখে নিন।

  • আমদানি করার ক্ষেত্রে আমদানিপত্র রেজিস্ট্রেশন করার জন্য।
  • সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভায় ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য।
  • যেকোন ধরনের বাণিজ্যিক দরপত্রের জন্য।
  • সিটি কর্পোরেশন অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলে যে কোন জমি বা ভবন রেজিস্ট্রেশনের জন্য।
  • ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করার জন্য।
  • কপম্পানী রেজিস্ট্রেশনের জন্য এবং কম্পানীর শেয়ার হোল্ডার হওয়ার জন্য টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  •  ড্রাগ লাইসেন্সের জন্য।
  • যেকোনো ব্যাবস্যায়িক সমিতির সদস্য হওয়ার জন্য কিংবা সদস্য পদ নবায়ন করার জন্য।
  • গাড়ি, জিপ অথবা মাইক্রোবাসের রেজিস্ট্রেশন কিংবা ফিটনেস লাইসেন্সের জন্য।
  • কোন পেশাদারী কাজের প্র্যাক্টিস এর জন্য লাইসেন্স নিতে হয়। যেমনঃ ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী ইত্যাদি।

টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার নিয়ম

টিন সার্টিফিকেট তৈরি করতে হলে আপনাকে সর্ব প্রথম টিন সার্টিফিকেট এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ঢুকতে হবে। তারপর আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র, মোবাইল নাম্বা্‌ এবং বর্তমান ঠিকানা, ওয়েবসাইটের নির্দেশনামূলক স্থানটিতে বসাতে হবে। আপনাদের সুবিধার্থে আমরা ছবির মাধ্যমে টিন সার্টিফিকেট আবেদন করার নিয়ম সংযুক্ত করছি,

টিন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করার নিয়ম

  • জাতীয় পরিচয়পত্র
  • মোবাইল নাম্বার
  • বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা
  1. পরবর্তীতে উল্লেখিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
  2. এখন রেজিস্টার বাটনে ক্লিক করতে হবে। পরবর্তীতে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর।
  3. ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে ক্যাপচা পূরণ করে একাউন্ট একটিভ করতে হবে।
  4. তারপর আপনার ফোন নাম্বার একই ভেরিফিকেশন কোড আসবে।
  5. কোড সাবমিট করুন। আপনার রেজিস্টার সম্পূর্ণ হয়ে গেল।
  6. এরপর টিন রেজিস্ট্রেশন এর জন্য ক্লিক করতে হবে।
  7. যে ফ্রম প্রদর্শন করা হবে সেই ফরমটি সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
  8. সব তথ্য ঠিক থাকলে সাবমিট অপশনে ক্লিক করুন।
  9. এবং পরবর্তীতে ভিউ অপশনে ক্লিক করে আপনার সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন।
টিন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করার নিয়ম
টিন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করার নিয়ম

টিন সার্টিফিকেট নবায়ন করার নিয়ম

আপনার যদি টিন সার্টিফিকেট আগে করা থাকে। তাহলে আপনি এইদিকে নবায়ন করতে পারবেন সেক্ষেত্রে, আপনাকে তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে। ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড সংযুক্ত করে, কাঙ্খিত তথ্যগুলি করে সেটি সাবমিট করুন। নিচে কিভাবে টিন সার্টিফিকেট নভায়েন করবেন। সে সম্পর্কে কিছু তথ্য দেওয়া হল দয়া করে দেখে নিবেন।

  • মূলত আয়কর অধ্যাদেশ আপনার টিন সার্টিফিকেটটি বন্ধ করার জন্য সুমির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা দেয় নি। তবে প্রচলিত ক্ষেত্রে আমরা টিন বাতিল করার জন্য এই নিয়মগুলো অনুসরণ করে থাকি।
  • আপনি যেই কর অঞ্চলের অধীনে আপনার টিন নাম্বারটি খুলেছেন সেই অঞ্চলের উপকর কমিশনার বরাবর আপনার টিন টি বাতিলের জন্য আবেদন বা দরখাস্ত করতে হবে।
  • দরখাস্থ করার পূর্বে সময়সাপেক্ষ কিছু নিয়ম অত্যাবশক।
  • একজন করদাতা হতে যে পরিমাণ আয় করার প্রয়োজন সেই পরিমাণ আয় যদি আপনার না থাকে তাহলে আপনাকে কমপক্ষে ৩ বছর শূণ্য রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
  • তিন বছর শূণ্য রটার্ন দেয়ার পরেও যদি আপনার সামনে করযোগ্য আয়ের কোন সম্ভাবনা না থাকে তাহলে আপনি তৃতীয় বছরের রিটার্ন জমা দেয়ার সময় আপনার আয়কর ফাইলটি নথিস্থ করার জন্য একটি আবেদন করতে হবে উপকর কমিশনার বরাবর।
  • উপকর কমিশনার যদি আপনার দরখাস্থে সন্তুষ্ট হয় তাহলে আপনার ফাইলটি নথিস্থ করে রাখবেন।
  • পরবর্তীতে যদি আপনার কর দেয়ার মতো আয় হয় তখন সেই ফাইলটি পুনরায় সচল করতে হবে। উল্লেখ্য যে একটি আইডি কার্ড দিয়ে কেবল একটিই টিন একাউন্ট খোলা যায়।

টিন সার্টিফিকেট বাতিল করার নিয়ম

আপনি যদি টিন সার্টিফিকেট বাতিল করতে চান। তাহলে আমাদের ওয়েবসাইটের নিচের তথ্যগুলো মেনে বাতিল করুন। আমরা আপনাদের জন্য খুব সহজভাবে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করার সবগুলি নিয়ম নিচে সংযুক্ত করছি আপনি চাইলে ঘরে বসেই টিন সার্টিফিকেট বাতিল করতে পারবে।

  • মূলত আয়কর অধ্যাদেশ আপনার টিন সার্টিফিকেটটি বন্ধ করার জন্য সুমির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা দেয় নি। তবে প্রচলিত ক্ষেত্রে আমরা টিন বাতিল করার জন্য এই নিয়মগুলো অনুসরণ করে থাকি।
  • আপনি যেই কর অঞ্চলের অধীনে আপনার টিন নাম্বারটি খুলেছেন সেই অঞ্চলের উপকর কমিশনার বরাবর আপনার টিন টি বাতিলের জন্য আবেদন বা দরখাস্ত করতে হবে।
  • দরখাস্থ করার পূর্বে সময়সাপেক্ষ কিছু নিয়ম অত্যাবশক।
  • একজন করদাতা হতে যে পরিমাণ আয় করার প্রয়োজন সেই পরিমাণ আয় যদি আপনার না থাকে তাহলে আপনাকে কমপক্ষে ৩ বছর শূণ্য রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
  • তিন বছর শূণ্য রটার্ন দেয়ার পরেও যদি আপনার সামনে করযোগ্য আয়ের কোন সম্ভাবনা না থাকে তাহলে আপনি তৃতীয় বছরের রিটার্ন জমা দেয়ার সময় আপনার আয়কর ফাইলটি নথিস্থ করার জন্য একটি আবেদন করতে হবে উপকর কমিশনার বরাবর।
  • উপকর কমিশনার যদি আপনার দরখাস্থে সন্তুষ্ট হয় তাহলে আপনার ফাইলটি নথিস্থ করে রাখবেন।
  • পরবর্তীতে যদি আপনার কর দেয়ার মতো আয় হয় তখন সেই ফাইলটি পুনরায় সচল করতে হবে। উল্লেখ্য যে একটি আইডি কার্ড দিয়ে কেবল একটিই টিন একাউন্ট খোলা যায়।

টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড (tin certificate download)

অনেকেই জানেননা টিন সার্টিফিকেট কিভাবে ডাউনলোড করবেন আমরা সহজভাবে টিন সার্টিফিকেট কিভাবে ডাউনলোড করবেন। সে সম্পর্কে আলোচনা করব এই তথ্য অনুসারে , আপনি চাইলে টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারবেন। সাধারণত টিন সার্টিফিকেট অ্যাপ্লাই করার পর একটি পাসওয়ার্ড এবং ইউজার আইডি থাকে এই পাসওয়ার্ড এবং ইউজার আইডি লগইন করলেই আপনি কি সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারবেন।

  • আমাদের পোস্টের দেয়া লিঙ্কের মাধ্যমে আয়কর বিভাগের সাইটে প্রবেশের করুন।
  • সেখান থেকে লগিন এ ক্লিক করুন।
  • এরপর আপনার ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে নিজের টিন একাউন্টে প্রবেশ করুন।
  • সেখানে আপনার টিন সার্টিফিকেটের যাবতীয় সব তথ্য চেক করতে পারবেন।
  • এছাড়া আপনি চাইলে সেখান থেকে প্রিন্ট বা ডাউনলোড করতে পারবেন একদম সহজেই। এভাবেই আপনি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারবেন।
টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড
টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড

বলা যায় আমরা চেষ্টা করেছি আপনাকে টিন সার্টিফিকেট সকল তথ্য দিতে। তাই আমাদের ওয়েবসাইট তথ্য গুলোর উপর ভিত্তি করে আপনি খুব সহজেই টিন সার্টিফিকেট এর সকল কাজকর্ম করতে পারবেন। টিন সার্টিফিকেট অথবা অন্য কোন বিষয়ে আপনার অজানা থাকলে তাহলে সেটি আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করতে পারেন ধন্যবাদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button